ইন্ডিগোর উপর ২২.২ কোটি টাকার বিশাল জরিমানা! ডিসেম্বর মাসের বিমান বিভ্রাটের জেরে ডিজিসিএ-র কড়া পদক্ষেপ

ইন্ডিগোর উপর ২২.২ কোটি টাকার বিশাল জরিমানা| ডিরেক্টরেট জেনারেল অফ সিভিল এভিয়েশন (DGCA) ভারতের বৃহত্তম বিমান সংস্থা ইন্ডিগোর (IndiGo) বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নিয়েছে। ডিসেম্বর মাসে হাজার হাজার যাত্রীকে ভোগান্তিতে ফেলার কারণে এবং সিস্টেমের গলদের জন্য ইন্ডিগোকে ২২.২ কোটি টাকার বিশাল জরিমানা করা হয়েছে।

​গত মাসে আপনিও কি বিমানবন্দরে ঘন্টার পর ঘন্টা আটকে ছিলেন? আবহাওয়া ভালো থাকা সত্ত্বেও কেন আপনার ফ্লাইট বাতিল বা লেট হয়েছিল, তার উত্তর অবশেষে পাওয়া গেছে। ডিজিসিএ-র তদন্তে উঠে এসেছে যে, কুয়াশা বা আবহাওয়া নয়, বরং ইন্ডিগোর নিজস্ব ব্যবস্থাপনার ত্রুটির কারণেই এই বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি হয়েছিল।

​এই ব্লগে আমরা সহজ ভাষায় জানাব—কেন ইন্ডিগোকে এত বড় অঙ্কের জরিমানা করা হলো, “ওভার-অপ্টিমাইজেশন” আসলে কী এবং যাত্রীদের জন্য এর মানে কী।

কেন এত বড় অঙ্কের জরিমানা? (জরিমানার হিসাব-নিকাশ)

​ডিজিসিএ এই জরিমানাটি কোনো আন্দাজের ওপর ভিত্তি করে করেনি। সিভিল এভিয়েশনের নিয়ম লঙ্ঘনের ওপর ভিত্তি করে মোট ২২.২ কোটি টাকার এই জরিমানা দুটি ভাগে ভাগ করা হয়েছে:

  • ১.৮ কোটি টাকা (এককালীন জরিমানা): এটি অপারেশনাল কন্ট্রোল বা পরিচালন ব্যবস্থায় ব্যর্থতা এবং নজরদারির অভাবের জন্য করা হয়েছে।
  • ২০.৪ কোটি টাকা (দৈনিক জরিমানা): এটিই আসল ধাক্কা। পাইলটদের রোস্টার বা ডিউটির নিয়ম (FDTL) না মানার কারণে, ২০২৫ সালের ৫ ডিসেম্বর থেকে ২০২৬ সালের ১০ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত—টানা ৬৮ দিন ধরে প্রতিদিন ৩০ লক্ষ টাকা করে জরিমানা ধার্য করা হয়েছে।

আসল সমস্যাটা কোথায় ছিল? (‘ওভার-অপ্টিমাইজেশন’-এর বিপদ)

​ডিসেম্বরের শুরুতে ইন্ডিগোর ২,৫০৭টি ফ্লাইট বাতিল এবং ১,৮৫২টি ফ্লাইট লেট হওয়ার পেছনে তদন্তকারীরা কিছু মারাত্মক কারণ খুঁজে পেয়েছেন:

​১. অতিরিক্ত লাভের আশা (Over-Optimisation)

​রিপোর্টে বলা হয়েছে, ইন্ডিগো “ওভার-অপ্টিমাইজেশন” বা অতিরিক্ত দক্ষতার ওপর জোর দিয়েছিল। সহজ কথায়, তারা বিমান এবং ক্রু-দের শিডিউল এতটাই টাইট রেখেছিল যে, সামান্য দেরি বা ছোট কোনো সমস্যাতেই পুরো ব্যবস্থা তাসের ঘরের মতো ভেঙে পড়ে। হাতে কোনো ‘ব্যাকআপ’ বা বাড়তি সময় রাখা হয়নি।

​২. পাইলটদের বিশ্রামের অভাব

​সবচেয়ে বড় উদ্বেগের বিষয় ছিল পাইলটদের ডিউটি ও বিশ্রামের নিয়ম (FDTL) না মানা। তদন্তে দেখা গেছে, ইন্ডিগো তাদের রোস্টার বা ডিউটি চার্ট এমনভাবে তৈরি করেছিল যে, জরুরি পরিস্থিতিতে প্লেন ওড়ানোর জন্য পর্যাপ্ত বিশ্রাম নেওয়া পাইলট পাওয়া যাচ্ছিল না।

​৩. সফটওয়্যারের ত্রুটি

​শীতকালীন কুয়াশা এবং ফ্লাইটের চাপ সামলানোর জন্য ইন্ডিগোর প্ল্যানিং সফটওয়্যার এবং ম্যানেজমেন্ট যথেষ্ট শক্তিশালী ছিল না।

যাত্রীদের জন্য এর মানে কী?

​এই ঘটনা ভারতের বিমান যাত্রীদের জন্য একটি বড় জয়। এটি সমস্ত এয়ারলাইন্সের কাছে একটি কড়া বার্তা পৌঁছে দিয়েছে যে—লাভের আশায় যাত্রীদের সুরক্ষা বা স্বাচ্ছন্দ্যকে বিসর্জন দেওয়া যাবে না।

​ভবিষ্যতে আমরা আশা করতে পারি:

  • বাস্তবসম্মত সময়সূচী: এয়ারলাইন্সগুলো এখন অতিরিক্ত ব্যাকআপ বিমান এবং ক্রু রাখতে বাধ্য হবে।
  • কম ফ্লাইট বাতিল: সঠিক রোস্টার বা ডিউটি চার্ট তৈরির ফলে “অপারেশনাল কারণ” দেখিয়ে হঠাত ফ্লাইট বাতিল হওয়ার ঘটনা কমবে।
  • যাত্রী সুরক্ষা: পাইলটরা পর্যাপ্ত বিশ্রাম পাবেন, যা নিরাপদ বিমান যাত্রার জন্য অত্যন্ত জরুরি।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Scroll to Top