
নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে এফআইআর? ভোটার তালিকা ও ‘আতঙ্কে মৃত্যু’ নিয়ে মমতার বিস্ফোরক দাবি| পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতিতে আবারও সংঘাতের আবহ। এবার সরাসরি নির্বাচন কমিশনের (Election Commission) বিরুদ্ধে তোপ দাগলেন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। ভোটার তালিকা সংশোধন বা সামারি রিভিশন (Summary Revision of Electoral Rolls) প্রক্রিয়াকে কেন্দ্র করে তৈরি হওয়া আতঙ্ক এবং তার জেরে মৃত্যুর অভিযোগ তুলে তিনি কমিশনের বিরুদ্ধে এফআইআর (FIR) করার দাবি জানিয়েছেন।
কেন হঠাৎ নির্বাচন কমিশনের ওপর ক্ষুব্ধ হলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়? কী কারণে তিনি ১১০ জনের মৃত্যুর প্রসঙ্গ তুললেন? নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে এফআইআর? ভোটার তালিকা ও ‘আতঙ্কে মৃত্যু’ নিয়ে মমতার বিস্ফোরক দাবি| জানুন বিস্তারিত।
১. ভোটার তালিকা সংশোধন ও ‘আতঙ্ক’
সাম্প্রতিক সময়ে নির্বাচন কমিশন ভোটার তালিকা সংশোধনের কাজ শুরু করেছে। কিন্তু মুখ্যমন্ত্রী অভিযোগ করেছেন, এই প্রক্রিয়া সাধারণ মানুষের মধ্যে চরম ভীতি ও উদ্বেগের সৃষ্টি করেছে। বিশেষ করে গ্রামীণ ও সীমান্তবর্তী এলাকায় মানুষের মনে নাগরিকত্ব হারানোর ভয় কাজ করছে।
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের মতে, নির্বাচন কমিশনের কিছু পদক্ষেপ এবং তথ্যের অভাব সাধারণ মানুষকে বিভ্রান্ত করছে। তাঁর দাবি, “মানুষ ভাবছে ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদ গেলেই বুঝি সব শেষ।” এই মনস্তাত্ত্বিক চাপ থেকেই রাজ্যে অস্থিরতা তৈরি হচ্ছে।
২. মুখ্যমন্ত্রীর দাবি: আতঙ্কে ১১০ জনের মৃত্যু
সবচেয়ে বিস্ফোরক যে অভিযোগটি মুখ্যমন্ত্রী করেছেন, তা হলো মৃত্যুর পরিসংখ্যান। তাঁর দাবি অনুযায়ী, এই ভোটার তালিকা সংশোধন এবং এনআরসি (NRC) আতঙ্কের কারণে রাজ্যে এখনও পর্যন্ত ১১০ জনেরও বেশি মানুষের মৃত্যু হয়েছে।
তিনি প্রশ্ন তুলেছেন, “এই মৃত্যুর দায় কে নেবে?” তাঁর মতে, গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার নামে যদি সাধারণ মানুষকে মৃত্যুর মুখে ঠেলে দেওয়া হয়, তবে তা মেনে নেওয়া যায় না। তিনি সরাসরি নির্বাচন কমিশনকে এই পরিস্থিতির জন্য দায়ী করেছেন।
“ভোটার তালিকার নামে মানুষকে ভীতসন্ত্রস্ত করা হচ্ছে। এর ফলে হার্ট অ্যাটাক ও আতঙ্কে মানুষের মৃত্যু হচ্ছে।” – মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়
৩. নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে এফআইআর-এর দাবি
সাধারণত সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে কোনো রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রীকে এতটা কঠোর হতে দেখা যায় না। কিন্তু মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় স্পষ্ট জানিয়েছেন যে, তিনি এই ঘটনার শেষ দেখতে চান। তিনি দাবি করেছেন, যাদের গাফিলতি বা নির্দেশিকার কারণে এই প্রাণহানি হয়েছে, তাদের বিরুদ্ধে এফআইআর (FIR) করা উচিত।
তৃণমূল নেত্রীর এই অবস্থানে রাজনৈতিক মহল মনে করছে, আগামী দিনে রাজ্য সরকার বনাম নির্বাচন কমিশনের সংঘাত আরও তীব্র হতে পারে।
৪. কেন এত উদ্বেগ?
পশ্চিমবঙ্গে এনআরসি (NRC) এবং সিএএ (CAA) নিয়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে একটি স্পর্শকাতর মনোভাব রয়েছে। অতীতেও নাগরিকত্ব প্রমাণ সংক্রান্ত নথিপত্র জোগাড় করতে গিয়ে মানুষের মধ্যে হাহাকার দেখা গিয়েছিল। মুখ্যমন্ত্রী মনে করেন, নির্বাচন কমিশনের বর্তমান প্রক্রিয়া সেই পুরনো ক্ষতকেই আবার জাগিয়ে তুলেছে।
এক নজরে মুখ্যমন্ত্রীর অভিযোগ:
- ভোটার তালিকা সংশোধন প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতার অভাব।
- সাধারণ মানুষের মধ্যে অহেতুক ভীতি সঞ্চার।
- আতঙ্কের কারণে ১১০-এর বেশি মানুষের অকাল মৃত্যু।
- কমিশনের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার হুঁশিয়ারি।
উপসংহার
গণতন্ত্রে নির্বাচন কমিশন একটি নিরপেক্ষ ও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। তবে রাজ্যের প্রশাসনিক প্রধান যখন কমিশনের বিরুদ্ধে প্রাণহানির মতো গুরুতর অভিযোগ আনেন, তখন বিষয়টি অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ হয়ে ওঠে। এখন দেখার বিষয়, নির্বাচন কমিশন এই অভিযোগের প্রেক্ষিতে কী প্রতিক্রিয়া জানায় এবং রাজ্য রাজনীতিতে এর জল কতদূর গড়ায়।
