পরিযায়ী শ্রমিক মৃত্যু: অন্ধ্র ও কেরালায় রহস্যজনকভাবে প্রাণ হারালেন বাংলার দুই শ্রমিক, খুনের অভিযোগ

পরিযায়ী শ্রমিক মৃত্যু: ফের অন্ধ্রপ্রদেশ ও কেরালায় রহস্যজনকভাবে মৃত্যু হল পশ্চিমবঙ্গের দুই শ্রমিকের। মালদহ ও দক্ষিণ ২৪ পরগনার পরিবারের অভিযোগ, তাঁদের খুন করা হয়েছে। বিস্তারিত পড়ুন।

Table of Contents:

  1. ভূমিকা
  2. অন্ধ্রপ্রদেশে দক্ষিণ ২৪ পরগনার শ্রমিকের রহস্যজনক মৃত্যু
  3. কেরালা থেকে ফিরল মালদহের শ্রমিকের নিথর দেহ
  4. খুন নাকি আত্মহত্যা? পরিবারের অভিযোগ কী?
  5. পরিযায়ী শ্রমিকদের নিরাপত্তা ও প্রশাসনের ভূমিকা
  6. উপসংহার

ফের শোকের ছায়া বাংলায়। পেটের দায়ে ভিন রাজ্যে কাজ করতে গিয়ে প্রাণ হারালেন পশ্চিমবঙ্গের দুই তাজা যুবক। পরিযায়ী শ্রমিক মৃত্যু-র (Migrant Worker Death) ঘটনায় আবারও তোলপাড় রাজ্য। অন্ধ্রপ্রদেশ এবং কেরালা—ভারতের দুই ভিন্ন প্রান্তে ঘটে যাওয়া এই ঘটনায় স্তব্ধ দক্ষিণ ২৪ পরগনা এবং মালদহ জেলা। দুই পরিবারেরই অভিযোগ, স্বাভাবিক মৃত্যু নয়, তাঁদের সন্তানকে ভিন রাজ্যে পরিকল্পিতভাবে খুন করা হয়েছে। এই ঘটনা আবারও ভিন রাজ্যে বাংলার শ্রমিকদের নিরাপত্তা নিয়ে বড়সড় প্রশ্নচিহ্ন তুলে দিল।

​অন্ধ্রপ্রদেশে দক্ষিণ ২৪ পরগনার শ্রমিকের রহস্যজনক মৃত্যু

​প্রথম ঘটনাটি ঘটেছে অন্ধ্রপ্রদেশে। কাজের সন্ধানে দক্ষিণ ২৪ পরগনার প্রত্যন্ত গ্রাম থেকে অন্ধ্রপ্রদেশে পাড়ি দিয়েছিলেন এক যুবক। স্বপ্ন ছিল পরিবারের হাল ফেরানোর। কিন্তু ফিরল তাঁর নিথর দেহ।

​স্থানীয় সূত্রে খবর, ওই যুবক অন্ধ্রপ্রদেশের একটি কারখানায় শ্রমিকের কাজ করতেন। হঠাৎই একদিন বাড়ি থেকে ফোনে যোগাযোগ করা হলে তাঁকে পাওয়া যাচ্ছিল না। পরে সহকর্মীদের মাধ্যমে মৃত্যুর খবর পৌঁছায়। অন্ধ্র পুলিশ প্রাথমিকভাবে একে অস্বাভাবিক মৃত্যু বা আত্মহ্ত্যা বলে দাবি করলেও, পরিবারের লোক তা মানতে নারাজ। দেহ গ্রামে ফিরতেই কান্নায় ভেঙে পড়েন আত্মীয়-পরিজনরা।

​কেরালা থেকে ফিরল মালদহের শ্রমিকের নিথর দেহ

​অন্যদিকে, মালদহ জেলাতেও একই হাহাকার। মালদহ মানেই পরিযায়ী শ্রমিকদের এক বড় উৎস। সেখান থেকেই এক যুবক পাড়ি দিয়েছিলেন সুদূর কেরালায়। সেখানে নির্মাণ শ্রমিকের কাজ করতেন তিনি।

​হঠাৎই কেরালা থেকে খবর আসে যে, ওই শ্রমিকের ঝুলন্ত দেহ উদ্ধার হয়েছে। কিন্তু মালদহের ওই পরিবারের দাবি, তাঁদের ছেলের মৃত্যুর পেছনে রহস্য রয়েছে। তাঁরা কিছুতেই বিশ্বাস করতে পারছেন না যে তাঁদের হাসিখুশি ছেলেটি আত্মহত্যা করতে পারে।

দ্রষ্টব্য: প্রতি বছর বাংলা থেকে হাজার হাজার শ্রমিক ভিন রাজ্যে যান। কিন্তু তাঁদের সুরক্ষার গ্যারান্টি কে দেবে? এই প্রশ্নটি আজ প্রতিটি সচেতন নাগরিকের মনে।

খুন নাকি আত্মহত্যা? পরিবারের অভিযোগ কী?

​উভয় ক্ষেত্রেই পুলিশি বয়ান এবং পরিবারের অভিযোগের মধ্যে আকাশ-পাতাল তফাত রয়েছে।

  • দক্ষিণ ২৪ পরগনার পরিবারের দাবি: দেহের একাধিক জায়গায় আঘাতের চিহ্ন রয়েছে বলে পরিবারের দাবি। তাঁদের অভিযোগ, পারিশ্রমিক বা স্থানীয় কোনো বিবাদের জেরে তাঁকে পিটিয়ে মারা হয়েছে এবং পরে আত্মহত্যা বলে চালানোর চেষ্টা করা হচ্ছে।
  • মালদহের পরিবারের দাবি: পরিবারের সদস্যদের মতে, মৃত্যুর কয়েক ঘণ্টা আগেও ছেলের সাথে কথা হয়েছিল এবং তখন তাঁকে সম্পূর্ণ স্বাভাবিক মনে হয়েছিল। তাঁদের অভিযোগ, সহকর্মীদের মধ্যে কোনো বিবাদের জেরে এই ঘটনা ঘটে থাকতে পারে।

​উভয় পরিবারই স্থানীয় প্রশাসন এবং রাজ্য সরকারের কাছে ঘটনার সঠিক তদন্ত এবং দোষীদের শাস্তির দাবি জানিয়েছেন। পাশাপাশি, ক্ষতিপূরণের দাবিও তোলা হয়েছে।

​পরিযায়ী শ্রমিকদের নিরাপত্তা ও প্রশাসনের ভূমিকা

পরিযায়ী শ্রমিক মৃত্যু-র ঘটনা এই প্রথম নয়। এর আগেও রাজস্থান, কাশ্মীর বা গুজরাট থেকে বাংলার শ্রমিকদের কফিনে বন্দি হয়ে ফিরতে দেখা গেছে। কেন বারবার এমন ঘটনা ঘটছে?

  1. রেজিস্ট্রেশনের অভাব: অনেক ক্ষেত্রেই শ্রমিকরা কোনো সরকারি পোর্টালে নাম নথিভুক্ত না করেই ভিন রাজ্যে চলে যান, ফলে বিপদে পড়লে ট্র্যাক করা কঠিন হয়।
  2. কাজের পরিবেশ: ভিন রাজ্যে অনেক সময় অস্বাস্থ্যকর এবং অসুরক্ষিত পরিবেশে কাজ করতে বাধ্য হন তাঁরা।
  3. ভাষাগত সমস্যা: স্থানীয় ভাষা না জানার ফলে অনেক সময় তাঁরা শোষণের শিকার হন এবং প্রতিবাদ করতে পারেন না।

​ইতিমধ্যে প্রশাসনের তরফ থেকে আশ্বাস দেওয়া হয়েছে যে, সংশ্লিষ্ট রাজ্যগুলির পুলিশের সাথে কথা বলে মৃত্যুর প্রকৃত কারণ খতিয়ে দেখা হবে।

​প্রায়শই জিজ্ঞাসিত প্রশ্নাবলী (FAQ)

১. পরিযায়ী শ্রমিকদের মৃত্যুর ঘটনায় পরিবার কোথায় অভিযোগ জানাবে?

পরিবার স্থানীয় থানায় অভিযোগ দায়ের করতে পারে এবং রাজ্য সরকারের ‘পরিযায়ী শ্রমিক কল্যাণ পর্ষদ’-এ যোগাযোগ করতে পারে।

২. রাজ্য সরকার কি কোনো ক্ষতিপূরণ দেয়?

হ্যাঁ, রাজ্য সরকারের স্কিম অনুযায়ী, ভিন রাজ্যে কর্মরত অবস্থায় শ্রমিকের মৃত্যু হলে আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে পরিবার ক্ষতিপূরণ পেতে পারে।

অন্ধ্রপ্রদেশ ও কেরালায় কি বাঙালি শ্রমিকরা সুরক্ষিত নন?

অধিকাংশ ক্ষেত্রে শ্রমিকরা সুরক্ষিত থাকলেও, বিচ্ছিন্ন কিছু ঘটনায় নিরাপত্তার অভাব দেখা দিচ্ছে। তাই সতর্ক থাকা এবং সরকারি পোর্টালে নাম নথিভুক্ত করা জরুরি।

​উপসংহার

​দক্ষিণ ২৪ পরগনা এবং মালদহের এই দুই যুবকের মৃত্যু অপূরণীয় ক্ষতি। পেটের টানে ঘর ছাড়া এই মানুষগুলোর জীবনের মূল্য কি এতটাই সস্তা? পরিযায়ী শ্রমিক মৃত্যু-র এই রহস্য উদঘাটন হওয়া অত্যন্ত জরুরি। আমরা আশা করব, রাজ্য সরকার এবং প্রশাসন দ্রুত পদক্ষেপ নেবে যাতে দোষীরা শাস্তি পায় এবং মৃতদের পরিবার সুবিচার পায়।

​বাংলার মেহনতি মানুষের নিরাপত্তা সুনিশ্চিত হোক, এটাই আমাদের কাম্য।

আপনার মতামত জানান: আপনি কি মনে করেন ভিন রাজ্যে শ্রমিকদের সুরক্ষায় আরও কঠোর আইন প্রয়োজন? কমেন্ট করে জানান|

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Scroll to Top