
ভোটার তালিকায় গরমিল! দেব-শামিকে তলব থেকে মেসি কান্ডে ধড়পাকড়— তোলপাড় রাজ্য রাজনীতিরাজনৈতিক এবং বিনোদন জগতের সাম্প্রতিক ঘটনাপ্রবাহে উত্তপ্ত পশ্চিমবঙ্গ। একদিকে যখন ভোটার তালিকা সংশোধন বা এসআইআর (SIR) প্রক্রিয়া নিয়ে সাধারণ মানুষের পাশাপাশি তারকাদের তলব করা হচ্ছে, তখন অন্যদিকে রাজনৈতিক কাদা ছোঁড়াছুড়ি পৌঁছেছে চরমে। পাশাপাশি ফুটবল জাদুকর লিওনেল মেসির কলকাতা সফর ঘিরে যে চরম বিশৃঙ্খলা তৈরি হয়েছিল, তার রেশ এখনো কাটেনি। এই সমস্ত ঘটনা মিলিয়ে রাজ্যের বর্তমান পরিস্থিতি বেশ সরগরম। চলুন বিস্তারিত জেনে নেওয়া যাক পশ্চিমবঙ্গের এই মুহূর্তের সবচেয়ে আলোচিত খবরগুলো সম্পর্কে।
কমিশনের স্ক্যানারে সেলেব দুনিয়া: দেব ও শামিকে জরুরি তলব
পশ্চিমবঙ্গে এখন ভোটার তালিকা সংশোধনের বিশেষ কর্মসূচি বা স্পেশাল ইন্টেনসিভ রিভিশন (SIR) চলছে। এই প্রক্রিয়া নিয়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে যেমন উদ্বেগ রয়েছে, তেমনি এবার এই তালিকায় নাম উঠল রাজ্যের হাই-প্রোফাইল তারকাদেরও। নির্বাচন কমিশন সূত্রে খবর, ভোটার তালিকায় তথ্যের গরমিল বা ‘আনম্যাপড’ ভোটার হিসেবে চিহ্নিত হওয়ার কারণে তলব করা হয়েছে তারকা সাংসদ দেব এবং ভারতীয় ক্রিকেট দলের পেসার মহম্মদ শামিকে। দেব ও তাঁর পরিবারের সদস্যদের শুনানির জন্য ডাকা হয়েছে। এ বিষয়ে দেব জানিয়েছেন, তিনি বা তাঁর পরিবার সাধারণ নাগরিকের মতোই এই প্রক্রিয়ায় অংশ নেবেন এবং প্রয়োজনে লাইনে দাঁড়িয়ে শুনানিতে হাজিরা দেবেন। আইনের ঊর্ধ্বে কেউ নন বলে তিনি মন্তব্য করেন। অন্যদিকে, মহম্মদ শামির ক্ষেত্রেও শুনানির নোটিশ পাঠানো হয়েছে। তবে তিনি বর্তমানে ক্রিকেট খেলায় ব্যস্ত থাকায় কমিশনে হাজিরা দিতে পারেননি। তাঁর জন্য পরবর্তী কোনো তারিখ নির্ধারণ করা হতে পারে বলে জানা গেছে। এই ঘটনা প্রমাণ করে যে, এবারের ভোটার তালিকা সংশোধনের প্রক্রিয়াটি অত্যন্ত কড়াকড়িভাবে পালন করা হচ্ছে, যেখানে সাধারণ মানুষ থেকে শুরু করে সেলিব্রেটি—কাউকেই ছাড় দেওয়া হচ্ছে না।
শাহের নিশানায় অনুপ্রবেশ, অভিষেকের কপ্টার বিভ্রাট: তুঙ্গে রাজনৈতিক তরজা
২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনকে সামনে রেখে তৃণমূল এবং বিজেপির মধ্যে রাজনৈতিক দ্বন্দ্ব এখন তুঙ্গে। সম্প্রতি কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ রাজ্য সফরে এসে অনুপ্রবেশকারী ইস্যুতে সুর চড়িয়েছেন। তিনি স্পষ্ট বার্তা দিয়েছেন যে, রাজ্য থেকে অনুপ্রবেশকারীদের চিহ্নিত করে তাদের নাম ভোটার তালিকা থেকে বাদ দেওয়া হবে এবং প্রয়োজনে তাদের ফেরত পাঠানো হবে। অমিত শাহের এই মন্তব্যের পরই রাজ্য রাজনীতিতে নতুন করে বিতর্কের ঝড় উঠেছে। তৃণমূল কংগ্রেসের পক্ষ থেকে এই পদক্ষেপের তীব্র বিরোধিতা করা হচ্ছে। এরই মধ্যে রাজনৈতিক উত্তেজনা আরও বাড়িয়ে দিয়েছে তৃণমূলের সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের হেলিকপ্টার বিতর্ক। অভিযোগ উঠেছে, অভিষেকের হেলিকপ্টারকে ওড়ার অনুমতি দেয়নি ডিজিসিএ (DGCA), যাকে তৃণমূল ‘রাজনৈতিক প্রতিহিংসা’ বলে দাবি করেছে। অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় অভিযোগ করেন, বিজেপি তাঁকে আটকাতে চাইছে, কিন্তু তিনি দমে যাওয়ার পাত্র নন। শেষমেশ তিনি ঝাড়খণ্ডের মুখ্যমন্ত্রী হেমন্ত সরেনের পাঠানো হেলিকপ্টারে করে তাঁর গন্তব্যে পৌঁছান। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে দুই দলের নেতাদের মধ্যে বাকযুদ্ধ এখন চরমে, যা আগামী নির্বাচনের আগে রাজনৈতিক পারদ আরও চড়িয়ে দিয়েছে।
মেসি ইভেন্টে মহাকেললেঙ্কারি: পুলিশের জালে আয়োজক, সামনে এল বড় তথ্য
কিছুদিন আগেই ফুটবলের রাজপুত্র লিওনেল মেসিকে কলকাতায় এনে যে বিশাল ইভেন্টের আয়োজন করা হয়েছিল, তা শেষ পর্যন্ত চরম বিশৃঙ্খলায় পর্যবসিত হয়। হাজার হাজার টাকা দিয়ে টিকিট কেটেও দর্শকরা মেসির দেখা ঠিকমতো পাননি বলে অভিযোগ। এই অব্যবস্থাপনার জেরে সল্টলেক স্টেডিয়ামে দর্শকদের ক্ষোভ ফেটে পড়ে এবং ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে। এই ঘটনার রেশ ধরেই পুলিশি তদন্তে বড়সড় মোড় এসেছে। ইভেন্টের মূল আয়োজক শতদ্রু দত্তকে পুলিশ গ্রেফতার করেছে এবং তাঁর বিরুদ্ধে অব্যবস্থাপনা ও আর্থিক অনিয়মের অভিযোগ আনা হয়েছে। আদালতের নির্দেশে তাঁর পুলিশি হেফাজতের মেয়াদ জানুয়ারি ৯ তারিখ পর্যন্ত বাড়ানো হয়েছে। তদন্তে উঠে এসেছে যে, নিরাপত্তার গলদ এবং চুক্তি অনুযায়ী ব্যবস্থা না থাকার কারণেই মেসি নিজেও এই আয়োজনে অসন্তুষ্ট ছিলেন। রাজ্য সরকার এবং পুলিশ প্রশাসন এই ঘটনাটিকে অত্যন্ত গুরুত্ব সহকারে দেখছে, কারণ এটি আন্তর্জাতিক স্তরে কলকাতার ভাবমূর্তির ওপর প্রভাব ফেলেছে। দর্শকদের টিকিটের টাকা ফেরতের বিষয়েও প্রশাসনের পক্ষ থেকে আশ্বাস দেওয়া হয়েছে।

